৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া

আসুন, আজকে আমরা ব্যবসা শিখি। আপনি কি ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই জানেন না? ভয়ের কিছু নেই, আমি তো আছিই! আজকে আপনাকে ৫০ হাজার টাকায় ২৫টি ব্যবসার আইডিয়া দেব, যা হতে পারে আপনার জীবনের সেরা অধ্যায়ের শুরু। এই ব্যবসাগুলো অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা সম্ভব এবং সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা যায়। আপনার কাছে ৫০ হাজার টাকা আছে, কিন্তু কোনো আইডিয়া নেই? কোথায় বিনিয়োগ করবেন, কীভাবে করবেন, বুঝতে পারছেন না? চিন্তার কিছু নেই, আমার সঙ্গেই থাকুন, সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাই ৫০ হাজার টাকায় ২৫টি ব্যবসার আইডিয়া জানতে পুরো পোস্টটি পড়ুন। পড়বেন কিন্তু...! 😌



  1. বাজার গবেষণা করাটা বেশ জরুরী । অর্থাৎ আপনার এলাকায় কোন জিনিসটার চাহিদা বেশি কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ পাওয়া যাচ্ছে না বা যায় না এমন কিছু আপনার খুঁজে বের করতে হবে । যেখানে প্রতিযোগিতা কম কিন্তু চাহিদা বেশি সেটাই আপনার বেছে নিতে হবে। 
  2. আপনাকে অবশ্যই আপনার গ্রাহককে সেবা প্রদানের মাধ্যমে সন্তুষ্ট রাখতে হবে ।
  3. টার্গেট অডিয়েন্স বলে ব্যবসা একটা কথা আছে । চলুন বুঝিয়ে বলি, টার্গেট অডিয়েন্স হলো এমন একদল মানুষ যাদের কাছে আপনি পণ্য বা কোন সেবা বিক্রি করতে চান। একটি উদাহরণ দিলে সহজে বুঝবেন, ধরুন আপনি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি অনলাইন পোশাকের ব্যবসা শুরু করলেন তাহলে আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা হতে পারে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সে নারী-পুরুষ, যারা অনলাইনে পোশাক কিনতে পছন্দ করে ।
  4. MVP যার পূর্ণরূপ হলো Minimum Viable Product. আপনি কি সহজে বুঝিয়ে বলি, আপনার পুঁজির সম্পূর্ণ টাকা অর্থাৎ ৫০০০০ টাকা দিয়ে প্রোডাক্ট না কিনে প্রথমে অল্প পরিসরে প্রোডাক্ট কিনে দেখতে পারেন আপনার কাস্টমাররা সেটি কিনতে আগ্রহী কিনা । মোদ্দা কথা আপনাকে ক্রেতার আগ্রহ যাচাই করতে হবে ।
  5. আপনার আরো যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে সেটা হলো ব্যবসা মানে শুধু পণ্য বিক্রয় নয় ব্যবসা মানে মানুষের সমস্যার সমাধান করা । একের উদাহরণ দিলে সহজে বোঝা যাবে, ধরুন, আপনার এলাকায় অনেক মানুষ ব্যস্ততার কারণে বাজারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন না। আপনি যদি তাদের অর্ডার অনুযায়ী বাজার করে বাড়িতে পণ্য পৌঁছে দেন, তাহলে আপনি শুধু পণ্য বিক্রি করছেন না, বরং মানুষের সময় বাঁচানোর সমস্যার সমাধান করছেন। এভাবেই মানুষের প্রয়োজন বুঝে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।
  6. গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি বিষয় হলো সততা যেটা ব্যবসার হৃদপিণ্ড । আপনি যে কোন ব্যবসা শুরু করলে সেটায় যদি সততা রাখেন এবং নিজের সবটুকু ঢেলে দেন তাহলে আপনার সফলতা আসবেই । 
  7. সর্বশেষ এবং সব থেকে বেশি জরুরী যে বিষয় সেটি হলো, আমি ব্যবসা করব এটা করব সেটা করব ভেবে বসে থাকলে আপনি কিছু করতে পারবেন না । তাই আপনার ভাবতে হবে এবং শুরু করতে হবে তাহলেই আপনি সফল হতে পারবেন।
  8. ইংরেজিতে একটা কথা আছে- planning is the half done of a work. অর্থাৎ, পরিকল্পনা করাই কাজের অর্ধেক সম্পূর্ণ করার সমান। তাই আপনাকে সুষ্ঠু সুন্দর পরিকল্পনা করে এগিয়ে যেতে হবে ।

আপনি যদি ৫০ হাজার টাকায় ২৫টি ব্যবসার আইডিয়া পাওয়ার জন্য পোস্টটি এতদূর পড়ে থাকেন, তার মানে আপনার মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ ও ধৈর্য রয়েছে। তাই আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট না করে চলুন, ৫০ হাজার টাকায় ২৫টি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা শুরু করি।

পোস্ট সূচিপত্রঃ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া

১. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর প্রথমটি হলো দেশি মুরগি পালন 

বর্তমান সময়ে পুরো বাজার জুড়ে রয়েছে ব্রয়লার মুরগির মেলা । যার কারনে দেশি মুরগি পালন হতে পারে একটি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। আপনি এখন ভাবতে পারেন ব্রয়লার অল্প সময়ে পালন করে বিক্রি করা যায় তাহলে দেশি মুরগি কেন পালন করব ! বর্তমানে দেশে মুরগির ডিমের চাহিদা পুরো দেশ জুড়ে ব্যাপক । ডিমের দাম বেশি হওয়া সত্ত্বেও মানুষ দেশি মুরগির ডিম ক্রয় করতে কৃপণতা করে না । 

আপনি পর্যাপ্ত ডিম উৎপাদন করে বাজারজাত করতে পারলে বেশ মোটা অংকের টাকা পাওয়া সম্ভব। আর অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির কেজি যেখানে ১৮০ টাকা থেকে ২২০ টাকার মধ্যে সেখানে দেশি মুরগি ৫০০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না । এছাড়া মাংসের স্বাদের কথা বিবেচনা করলে দেশি মুরগি অনেক গুণ এগিয়ে । এমনকি দেশী মুরগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্রয়লার থেকে বেশি । তাই ব্রয়লার পালন না করে দেশি মুরগি কেন পালন করবেন সেটা হয়তো বুঝতে পেরেছেন । ৫০০০০ টাকার মধ্যে আপনি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে কিছু দেশি মুরগির বাচ্চা কিনবেন ১০০০০ টাকা খরচ করে ওদের বাসস্থান তৈরি করবেন এবং বাকি টাকা খাদ্য ও ঔষধ এর পিছনে ব্যয় করবেন । 



২. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর দ্বিতীয়টি হলো মাছের ব্যবসা 

বাংলাদেশ মাছের চাহিদা সব সময় রয়েছে । দিন দিন সেটি বেড়ে চলেছে, কমার কোন নাম নেই । এজন্যই তো বলে মাছে ভাতে বাঙালি । তাই আপনার কাছে ৫০ হাজার টাকা থাকলে মাছের ব্যবসা হতে পারে একটি লাভজনক ব্যবসা । এখন হয়তো ভাবতে পারেন ৫০০০০ টাকায় পুকুর দেবো কিভাবে মাছের পোনা কিনব কিভাবে মাছকে খাওয়াবো কিভাবে । 

ধৈর্য ধরুন বুঝিয়ে দিচ্ছে,, প্রথম অবস্থায় আপনি মাছ চাষের চিন্তা না করে বিক্রি করে টাকা আয়ের এবং পুঁজি বাড়ানোর চিন্তা করুন । আপনি প্রতিদিন ভোরে মাছের আরতে গিয়ে তাজা টাটকা মাছ কিনে নিয়ে এসে খুচরো বাজারে বিক্রি করুন ,, এতে করে আপনি নগদ কচকচের টাকা আয় করতে পারবেন । আর এটি করার জন্য আপনার ৫০০০০ হাজার টাকার কম থাকলেও চলবে ।



৩. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর তৃতীয়টি হলো মুদির দোকান 

৫০,০০০ টাকা দিয়ে ছোট পরিসরে একটি মুদিখানার দোকান শুরু করতে পারেন। চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি, বিস্কুট, সাবান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য দিয়ে ব্যবসাটি শুরু করা সম্ভব। যেখানে আপনি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে মালামাল ক্রয় করবেন এবং বাকি টাকা দোকান ভাড়া দেবেন ।

আপনার বাড়িতে যদি জায়গা থাকে এবং সেখানে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে আপনি সেখানে দোকান করলে আপনার দোকানের ঘর ভাড়া টা বেঁচে যাবে।  কিন্তু ব্যবসা শুরুর আগে অবশ্যই ক্রেতাদের চাহিদা যাচাই করতে হবে । কোন পণ্য দোকানে তুললে ক্রেতা বেশি আসবে সেটা আপনার খুঁজে বের করতে হবে নিজের এলাকায় । প্রথম অবস্থায় অল্প টাকা লাভে ব্যবসা শুরু করুন এরপর দোকান বড় করুন । 

৪. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর চতুর্থটি হলো রাস্তার পাশে ফাস্টফুডের দোকান 

আপনি যদি শহরের বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে এই ব্যবসাটি হতে পারে আপনার জন্য মাস্টার প্ল্যান । বাংলাদেশে ফাস্টফুড এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই ব্যবসাটি করার জন্য আপনাকে উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে লোকসমাগম ব্যাপক । স্কুল-কলেজের পাশে ব্যস্ত রাস্তার পাশে আপনি জায়গা নির্বাচন করতে পারেন । ৫০,০০০ টাকা দিয়ে রাস্তার পাশে ছোট পরিসরে একটি ফাস্টফুডের দোকান শুরু করতে পারেন। এখানে সিঙ্গারা, সমুচা, বার্গার, স্যান্ডউইচ, নুডলস ও চা-কফির মতো খাবার বিক্রি করতে পারেন।  আপনাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং হাইজেনিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে ।

কেমন খরচ হতে পারে সাধারণ আইডিয়া:- অস্থায়ী স্টল বা টেবিল ৮,০০০ টাকা । চুলা, গ্যাস ও রান্নার সরঞ্জাম ৭,০০০ টাকা । কাঁচামাল ও খাবারের উপকরণ ১০,০০০ টাকা । প্লেট, গ্লাস ও প্যাকেজিং ৩,০০০ টাকা । বসার জন্য বেঞ্চ ও অন্যান্য সরঞ্জাম ৪,০০০ টাকা । দোকানের সাইনবোর্ড ও আলোকসজ্জা ২,০০০ টাকা । জায়গা ভাড়া ও অগ্রিম ৮,০০০ টাকা । জরুরি ও অন্যান্য খরচ ৮,০০০ টাকা । সর্বমোট ৫০,০০০ টাকা ।

৫. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর পঞ্চম টি হলো হোমমেড কেক 

আপনি হয়তো জানেন বর্তমানে হোমমেড কেকের ট্রেন্ড পুরো দেশ জুড়ে । গ্রাম হোক বা শহরে আপনি এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন । ৫০০০০ টাকার মধ্যে সকল সরঞ্জাম কেনা হয়ে যাবে । এছাড়া আপনি যখন ডেলিভারি দিবেন তখন যে বক্সটির মধ্যে কেক রাখবেন সেটি অল্প খরচে সুন্দর করে ডেকোরেশন করবেন এতে করে কাস্টমারের নজর আকৃষ্ট হবে । স্বাদ এবং গুণগত মানের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন । ব্যবসাটি অফলাইন এবং অনলাইন দুই ভাবে করতে চেষ্টা করবেন এতে আপনার বিক্রি বেশি হবে ।

৬. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর ষষ্ঠ টি হলো খাবারের ব্যবসা 

আপনার বাড়ি যদি শহরে হয়ে থাকে তাহলে এটা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে এবং উপযুক্ত একটি ব্যবসা । শহরে অনেক ছাত্র-ছাত্রী থাকে যারা আবাসিক থেকে পড়াশোনা করে । এছাড়া অনেক ব্যাচেলার চাকরিজীবী রয়েছে তারা হবে আপনার কাস্টমার । কারণ তারা বাড়ি থেকে দূরে থাকার কারণে বাড়ির খাবার খাওয়ার প্রতি তাদের আগ্রহ অনেক বেশি । আপনি যদি রান্নাবান্না ভালো করতে পারেন তাহলে অবশ্যই এই ব্যবসাটি আপনাকে সফলতা এনে দেবে । 

আপনি ভাত ,মাছ ,মাংস ,ডাল, সবজি, শাক ঘরে রান্না করে অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মার্কেটিং করে কাস্টমার ধরতে পারেন । তবে খাবার যেন নষ্ট না হয় এজন্য অগ্রিম অর্ডারের ব্যবস্থা করতে পারেন অথবা অল্প পরিসরে রান্না করবেন । ৫০০০০ টাকার কমেই এই ব্যবসাটি শুরু করা সম্ভব । পরবর্তীতে আপনার চাহিদা বেশি থাকলে ক্যাটারিং এর ব্যবস্থা করতে পারেন ।

৭. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর সপ্তম টি হলো দেশি ছাগলের খামার 

গ্রামের মানুষের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা । ৫০০০০ টাকা বাজেট হলে আপনি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দেশি ব্লাক বেঙ্গল ভালো জাতের ছাগলের বাচ্চা ক্রয় করতে পারেন প্রথম অবস্থায় । বাকি বিশ হাজার টাকা ছাগলের ঘর তৈরি এবং অন্যান্য জরুরি খরচে ব্যায় করুন । বাড়িতে জায়গা থাকলে ছোট ঘর তৈরি করে দিন এতে খরচ কম হবে। সাধারণ ঘাস লতাপাতা খেয়ে ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল বেঁচে থাকে । এবং বাচ্চা জন্মদানের সময় একাধিক বাচ্চা দানে সক্ষম । কখনো কখনো তিন,চার বা পাঁচটি পর্যন্ত বাচ্চা দিয়ে থাকে । এভাবে একসময় বড় একটি খামার তৈরি করা সম্ভব । 



৮. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর অষ্টম টি হলো নার্সারি 

৫০,০০০ টাকা দিয়ে ছোট পরিসরে একটি গাছের নার্সারি শুরু করতে পারেন। বর্তমানে বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি, ছাদবাগান, ফল চাষ ও বাগান করার জন্য বিভিন্ন ধরনের গাছের চাহিদা রয়েছে। নার্সারিতে ফলের চারা, ফুলের গাছ, সবজির চারা এবং বিভিন্ন ধরনের শোভাবর্ধক গাছ বিক্রি করতে পারেন। শুরুতে নিজের বাড়ির সামনে বা খালি জায়গায় নার্সারি তৈরি করলে দোকানভাড়া বাঁচানো সম্ভব। গাছের চারা, টব, মাটি, সার ও পানি দেওয়ার সরঞ্জাম কিনে অল্প পরিসরে ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। তবে এলাকায় এর চাহিদা অবশ্যই যাচাই করবেন । এছাড়া আপনি অনলাইনের মাধ্যমে মার্কেটিং করে আপনার চারা দেশজুড়ে ডেলিভারি দিতে পারেন ।



৯. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর নবম টি হলো স্টেশনারি দোকান 

৫০,০০০ টাকা দিয়ে ছোট পরিসরে একটি স্টেশনারি দোকান শুরু করতে পারেন। এই দোকানে খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, শার্পনার, স্কেল, ফাইল, কাগজ ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ বিক্রি করতে পারবেন। স্কুল, কলেজ, কোচিং সেন্টার কিংবা বাজারের পাশে দোকান দিতে পারলে ক্রেতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। শুরুতে বেশি দামের পণ্য না কিনে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রতিদিন প্রয়োজন হয় এমন জিনিস বেশি রাখুন। ব্যবসা শুরু করার আগে আশপাশের দোকানগুলোতে কোন পণ্য বেশি বিক্রি হয়, তা একটু খোঁজ নিন।

স্টেশনারি দোকান শুরু করতে প্রথমে ২৫,০০০ টাকা দিয়ে খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, স্কেল, ফাইল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন। দোকানের তাক ও কাউন্টার তৈরি করতে প্রায় ৭,০০০ টাকা, টেবিল-চেয়ার ও অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য ৩,০০০ টাকা এবং সাইনবোর্ড তৈরির জন্য ২,০০০ টাকা রাখতে পারেন। দোকান ভাড়া ও অগ্রিমের জন্য ৬,০০০ টাকা এবং পণ্য আনা-নেওয়া ও অন্যান্য খরচের জন্য ২,০০০ টাকা লাগতে পারে। বাকি ৫,০০০ টাকা হাতে রাখুন ।

১০. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর দশম টি হলো কয়েল পাখি পালন 

৫০,০০০ টাকা দিয়ে ছোট পরিসরে কোয়েল পাখির খামার শুরু করতে পারেন। ডিম বিক্রির উদ্দেশ্যে ১০০টি ডিম দেওয়ার উপযোগী স্ত্রী কোয়েল কিনতে আনুমানিক ৬,৫০০–৭,০০০ টাকা লাগতে পারে। খাঁচা তৈরি করতে প্রায় ৮,০০০–১২,০০০ টাকা এবং খাবার, পানির পাত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য অতিরিক্ত টাকা রাখতে হবে। 

সাধারণত কোয়েল পাখি ৬–৭ সপ্তাহ বয়সে ডিম দেওয়া শুরু করে এবং ভালো পরিচর্যা পেলে প্রথম বছরে একটি পাখি প্রায় ২৫০–৩০০টি ডিম দিতে পারে। ১০০টি পাখির জন্য প্রতিদিন প্রায় ২–২.৫ কেজি খাবার প্রয়োজন হয়। তবে ডিমের উৎপাদন ও লাভ পাখির স্বাস্থ্য, খাবারের দাম এবং বাজারে ডিমের চাহিদা কেমন তার ওপর নির্ভর করে। তাই ব্যবসা শুরুর আগে ডিম বিক্রির ক্রেতা ঠিক করে নিন এবং জরুরি খরচের জন্য কিছু টাকা অবশ্যই হাতে রাখবেন । কি বুঝছেন তো ? 🤔



১১. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর এগারোতম টি হলো দেশি-বিদেশি কবুতর পালন 

লোকে বলে কবুতর নাকি শৌখিন মানুষদের পালনের জিনিস । আমার মতে সঠিক প্লানিং এবং সঠিক জাত নির্বাচন করতে পারলে কবুতর পালন হতে পারে একটি চরম লাভজনক ব্যবসা । আপনি বিদেশি জাতের কিছু কবুতর যেমন :- কোকা,বোম্বাই,শেরাজি,কিং,শাটিং,গিরিবাজ ইত্যাদি কবুতর কিনতে পারেন । 

বিদেশি কবুতর সাধারণত ৫–৭ মাস বয়সে ডিম দেয় । ডিম দেওয়ার প্রায় ১৭–১৯ দিন পর বাচ্চা ফোটে।বাচ্চা পালন ও পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে প্রায় ৩০–৪৫ দিন পর আবার ডিম দিতে পারে। তবে সঠিক সময় চিকিৎসা করতে হবে নাহলে মারা যাবে । আর বাচ্চা ফুটে নিজে থেকে খাওয়া শিখলেই ৪০০০-৬০০০ টাকা জোরা বিক্রি করতে পারবেন । খাবারের তালিকায় গম প্রধান তালিকায় রাখবেন । ৫০০০০ টাকা পুঁজিতে এটি একটি উপযুক্ত ব্যবস্থা ।



১২. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর বারতম টি হলো ডিমের ব্যবসা 

আপনার যদি মুরগি পালন কঠিন কাজ মনে হয় তবে ৫০০০০ টাকায় আপনি ডিমের ব্যবসা শুরু করতে পারেন । যাতে আপনার মুরগি পালনের ঝামেলা নাই । শুধু খামারি দের কাছ থেকে দেশি বিদেশি মুরগির ডিম পাইকারি মূল্যে সংগ্রহ করে খুচরা মূল্যে বিক্রি করুন । আপনি আরও ভালো কিছু করতে চাইলে ডিম গুলো বক্স 🎁 বন্দি করে বিক্রি করতে পারেন এতে করে ক্রেতারা আকৃষ্ট হবে । এতে করে আপনি নগদ টাকায় ব্যবসা করতে পারবেন । 

১৩. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর তেরো তম টি হলো আতর ও পারফিউম বিক্রি 

৫০,০০০ টাকা দিয়ে ছোট পরিসরে আতর ও পারফিউম বিক্রির ব্যবসা শুরু করতে পারেন। সুগন্ধি ব্যবহারে মানুষ এর মন ভালো থাকে আর মন ভালো থাকলে শরীর ও ভালো থাকে । বর্তমানে অনেক মানুষ দৈনন্দিন ব্যবহার, উপহার দেওয়া এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহার করার জন্য সুগন্ধি কিনে থাকেন। তাই ভালো মানের আতর, বডি স্প্রে ও বিভিন্ন দামের পারফিউম নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। 

প্রথমে পাইকারি বাজার থেকে অল্প পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি সংগ্রহ করুন, যাতে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী কিনতে পারেন। দোকান নিয়ে ব্যবসা করার পাশাপাশি ফেসবুক পেজের মাধ্যমেও পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। শুরুতে বেশি দামের পণ্য না কিনে কম ও মাঝারি দামের সুগন্ধির ওপর গুরুত্ব দিন। পণ্যের মান ভালো রাখা, সঠিক দাম নির্ধারণ এবং ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে পারলে ধীরে ধীরে ব্যবসাটি বড় করতে পারবেন ।

১৪. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর চৌদ্দ তম টি হলো ফার্মেসি 

৫০ হাজার টাকা বাজেটে ছোট পরিসরে ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। এ জন্য প্রথমে এমন একটি স্থান বেছে নিতে হবে, যেখানে মানুষের চলাচল বেশি এবং আশেপাশে হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চিকিৎসকের চেম্বার রয়েছে। তবে এলাকায় আগে থেকেই অনেক ফার্মেসি থাকলে প্রতিযোগিতা বেশি হতে পারে, তাই বাজারের চাহিদা যাচাই করে দোকান নেওয়া ভালো। 

এই বাজেটে দোকান ভাড়া ও অগ্রিম বাবদ ১০ হাজার টাকা, ওষুধ কেনার জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং তাক, সাইনবোর্ড ও অন্যান্য খরচের জন্য ৫ হাজার টাকা রাখা যেতে পারে। বাকি ৫ হাজার টাকা জরুরি প্রয়োজনে কাজে লাগবে। শুরুতে বেশি বিক্রি হয় এমন প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী অল্প পরিমাণে কিনতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে টাকা আটকে না থাকে। 

তবে মনে রাখতে হবে, ওষুধ বিক্রির জন্য প্রযোজ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের লাইসেন্স, নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট বা প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসংক্রান্ত নিয়ম মেনে ব্যবসা শুরু করতে হবে। তাই দোকান ভাড়া নেওয়ার আগে লাইসেন্সের শর্তগুলো যাচাই করে নেওয়া জরুরি ।

১৫. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর পনেরো তম টি হলো মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ বিক্রি 

বর্তমানে মোবাইল ব্যবহারকারী সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে । ভবিষ্যতেও এর চাহিদা বৃদ্ধি হওয়া ছাড়া কমার কোন সুযোগ নেই । তাই এটিকে ব্যবসা হিসেবে বেছে নেওয়া যায় । এ ব্যবসার জন্য এমন জায়গায় দোকান নেওয়া ভালো, যেখানে মানুষের চলাচল বেশি, যেমন বাজার, বাসস্ট্যান্ড, কলেজের আশপাশ বা মোবাইল ফোনের দোকান রয়েছে এমন এলাকা। 

দোকানে বিক্রির জন্য মোবাইল কভার, চার্জার, ডেটা কেবল, ইয়ারফোন, টেম্পারড গ্লাস, মোবাইল স্ট্যান্ড, OTG, মেমোরি কার্ড ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজ রাখতে পারেন। পণ্য কেনার জন্য ঢাকার মোতালেব প্লাজা বা মিরপুরের মোবাইল অ্যাক্সেসরিজের পাইকারি দোকানগুলো খোঁজ নিতে পারেন। চট্টগ্রামে থাকলে রিয়াজউদ্দিন বাজারেও খোঁজ নিতে পারেন। কেনার আগে কয়েকটি দোকানে দাম ও পণ্যের মান যাচাই করবেন। 

১৬. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর পনেরো তম টি হলো প্রিন্ট ও ফটোকপি সার্ভিস

৫০ হাজার টাকা বাজেটে প্রিন্ট ও ফটোকপি সার্ভিসের ব্যবসা ছোট পরিসরে শুরু করা যায়। এ ব্যবসার জন্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সরকারি অফিস বা আদালতের আশপাশে দোকান নেওয়া ভালো, যেখানে কাগজপত্র প্রিন্ট ও ফটোকপির চাহিদা বেশি। শুরুতে নতুন মেশিনের বদলে ভালো অবস্থার একটি পুরোনো মাল্টিফাংশন লেজার প্রিন্টার কিনতে পারেন, যা দিয়ে প্রিন্ট, ফটোকপি ও স্ক্যানের কাজ করা যাবে। 

মেশিন কেনার জন্য ২০–২৫ হাজার টাকা, দোকান ভাড়া ও অগ্রিমের জন্য ১০ হাজার টাকা, কাগজ, টোনার ও অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং জরুরি খরচের জন্য ১০ হাজার টাকা রাখা যেতে পারে। মেশিন কেনার আগে অবশ্যই প্রিন্টের মান, কপি করার ক্ষমতা ও মেরামতের খরচ পরীক্ষা করবেন। শুরুতে সাদা-কালো প্রিন্ট ও ফটোকপির পাশাপাশি অনলাইন ফর্ম পূরণ এবং স্ক্যানের সেবা দিতে পারেন। ব্যবসা ভালো চললে পরবর্তী সময়ে রঙিন প্রিন্টার ও কম্পিউটার যুক্ত করে সেবার পরিধি বাড়ানো যাবে।

১৭. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর সতেরো তম টি হলো হ্যান্ডমেট নানান পণ্য তৈরি 

আপনার যদি নানান রকম জিনিস তৈরি করার প্রতিভা থেকে থাকে তাহলে এই ব্যবসাটি আপনার জন্য । এবং এই ব্যবসা শুরুর জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা যথেষ্ট এমাউন্ট । এ ব্যবসায় নিজের হাতে তৈরি বিভিন্ন আকর্ষণীয় পণ্য অনলাইন ও স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে পারেন। যেমন: হাতে তৈরি গয়না, পুঁতির মালা ও ব্রেসলেট, কাগজের ফুল, উপহারের বক্স, হাতে আঁকা মগ, সাজানোর শোপিস, মোমবাতি, সুগন্ধি মোমবাতি, হাতে তৈরি ব্যাগ, নকশিকাঁথা, এমব্রয়ডারির কাজ, ঘর সাজানোর ওয়াল হ্যাঙ্গিং এবং হাতে তৈরি শুভেচ্ছা কার্ড। তবে শুরুতে নিজের দক্ষতা ও এলাকার চাহিদা অনুযায়ী ২–৩ ধরনের পণ্য বেছে নিয়ে তৈরি করা উচিত।



১৮. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর আঠারো তম টি হলো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রি

৫০ হাজার টাকা বাজেটে ছোট পরিসরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রির ব্যবসা শুরু করা যায়। এ জন্য আবাসিক এলাকা, নতুন বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে এমন স্থান অথবা নির্মাণসামগ্রীর দোকানের আশপাশে দোকান নেওয়া ভালো। শুরুতে ১০–১২ ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্য অল্প পরিমাণে কিনতে পারেন। যেমন: বাল্ব, এলইডি লাইট, সুইচ, সকেট, প্লাগ, হোল্ডার, বৈদ্যুতিক তার, মাল্টিপ্লাগ, সার্কিট ব্রেকার (MCB), ইনসুলেশন টেপ ও এক্সটেনশন বোর্ড। কেনার সময় অবশ্যই পণ্য বেছে ভালো পণ্য দেখেশুনে কিনবেন । শুরুতেই সব টাকা খরচ না করে অল্প পরিমাণে মালামাল কিনে আগে বাজার যাচাই করুন তারপর সুযোগ বুঝে বাকি টাকা ইনভেস্ট করুন ।

১৯. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর উনিশ তম টি হলো বাচ্চাদের খেলনার দোকান 

আপনি যদি সঠিক জায়গা এবং সঠিক পণ্য নির্বাচনের পর পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন তাহলে এই ব্যবসাটি আপনার জন্য অনেক লাভজনক হতে পারে । বাচ্চাদের খেলনার প্রতি আগ্রহ কোনদিন ফুরাবে না যতদিন দুনিয়ায় বাচ্চারা থাকবে ততদিন এই ব্যবসাও টিকে থাকবে । শুধু সময়ের সাথে সাথে খেলনা ধরন মান এগুলো উন্নত করতে হবে । 

আগেকার বাচ্চা যে ধরনের খেলনা দিয়ে খেলাধুলা করতো এখনকার বাচ্চারা একই ধরনের খেলনা দিয়ে খেলে না এখন যুগ পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে বাচ্চাদের খেলাধুলার সামগ্রিরও পরিবর্তন হয়েছে।  তাই আপনাকে সঠিক খেলনা নির্বাচন করে দোকানে নিয়ে আসতে হবে তাহলে আপনার বেচাকেনা বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি লাভবান হতে পারবেন। বাচ্চাদের খেলনার দোকান দেওয়ার জন্য ৫০০০০ টাকা যথেষ্ট । 

২০. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর বিশ তম টি হলো মাশরুম চাষ

বর্তমানে মাশরুম চাষ খুবই সম্ভাবনাময় একটি ব্যবসা । আরো বেশ কয়েক বছর পিছনে তাকালে দেখা যায় মানুষ এ ধরনের ব্যবসা নিয়ে ভাবতো না কিন্তু অনেক উন্নত বিশ্বের বর্তমানে মাশরুম চাষ খুবই জনপ্রিয় একটি ব্যবসা । বাংলাদেশেও বর্তমানে অনেক জায়গায় অনেক যুবক এই ব্যবসা বেছে নিয়েছে। আপনি গ্রামের হন বা শহরের এই ব্যবসা আপনি যেকোনো জায়গা থেকেই করতে পারবেন ।মাশরুম চাষ অল্প জায়গায় শুরু করা যায় এবং বাড়ির একটি খালি ঘর ব্যবহার করেও ছোট পরিসরে এ ব্যবসা করা সম্ভব। 

শুরুতে ঝিনুক মাশরুম চাষ করা ভালো, কারণ এটি তুলনামূলক সহজে চাষ করা যায়। মাশরুম চাষের জন্য পরিষ্কার, ছায়াযুক্ত, আর্দ্র এবং সরাসরি রোদ থেকে দূরে এমন ঘর বেছে নিতে হবে। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে, তবে অতিরিক্ত গরম বা ধুলাবালি যেন না থাকে। চাষের জন্য খড় ও মাশরুমের বীজ বা স্পন ব্যবহার করে প্যাকেট তৈরি করতে হয়। এরপর প্যাকেটগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় রেখে পরিচর্যা করতে হয়, যাতে মাশরুম জন্মাতে পারে। তবে চারা বা বীজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে । এ সম্পর্কে ইউটিউবে পর্যাপ্ত ভিডিও রয়েছে চাইলে দেখে নিতে পারেন ।



২১. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর একুশ তম টি হলো মোবাইল রিপেয়ারিং সার্ভিস 

আপনার বাজেট যদি হয় ৫০ হাজার টাকা তাহলে এই কাজটিও আপনি খুব সহজে করতে পারবেন। কাজটি করার জন্য আপনাকে প্রথমে ট্রেনিং নিতে হবে মোবাইলের সকল পার্টস সম্পর্কে ধরে নিতে হবে কাজ শিখতে হবে কোন ওস্তাদের কাছ থেকে তারপর দোকান দিতে হবে। দোকান দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় করতে হবে । কেন এই কাজটি আপনি করবেন : যেহেতু মোবাইলের চাহিদা এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে সেহেতু এই কাজ করতে গেলে আপনি পর্যাপ্ত কাস্টমার পেয়ে যাবেন শুধু আপনাকে সঠিক জায়গা নির্বাচন করতে হবে এবং আপনার কাজে আপনাকে পারদর্শী হতে হবে । 

আপনি যদি কাজে পটু না হন এবং কাস্টমার আপনার কাজে সন্তুষ্ট না হয় তাহলে আপনি ব্যবসায় উন্নতি করতে পারবেন না । প্রথম অবস্থায় কোন অর্ডার পেলে দ্রুত ডেলিভারি দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে যাতে ওই কাস্টমার অন্য কাউকে আপনার কাস্টমার বানিয়ে নিয়ে আসে । ভালো ব্যবহার এবং কাজের দ্বারা কাস্টমারের মন জয় করতে পারলেই আপনি ব্যবসায় উন্নতি করতে পারবেন

এতক্ষণ আপনাকে যে আইডিয়াগুলো দিলাম সেগুলো হচ্ছে অফলাইনে ব্যবসার আইডিয়া । এখন বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য কিছু অনলাইন কাজের আইডিয়া নিয়ে আমরা কথা বলব । এগুলা এমন কিছু কাজ যা আপনি ঘরে বসে করতে পারবেন আর আপনার কাস্টমার হবে বিশ্বব্যাপী যদি আপনি কাজে দক্ষ হন। কাজগুলো শেখার জন্য আপনার পর্যাপ্ত ইচ্ছা এবং অধ্যবসায় থাকতে হবে । চলুন তাহলে শুরু করি ৫০০০০ টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর বাকি আইডি গুলো ।

২২. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর বাইশ তম টি হলো ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে ইনকাম 

শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক ডিজিটাল মার্কেটিং কি , অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য বা সেবা ব্যক্তির বিজ্ঞাপন করাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে । বর্তমানে এটি খুবই জনপ্রিয় একটি অনলাইন ইনকামের মাধ্যম । লক্ষ নারী-পুরুষ এই কাজে আগ্রহী হয়ে শিখে তাদের ক্যারিয়ার নিশ্চিত করছে । আপনি যদি চান তবে বাকি সবার মত আপনিও পারবেন । ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের অন্তর্ভুক্ত কাজগুলো হলো: সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM), সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম বিজ্ঞাপন, কনটেন্ট মার্কেটিং, ই-মেইল মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, গুগল অ্যাডস, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এবং অ্যানালিটিকস ও রিপোর্টিং। 

প্রত্যেকদিন জার্নি করে অফিসে গিয়ে কাজ করার থেকে ঘরে বসে কাজ করা অবশ্যই বেশি আরামদায়ক এবং সহজ । এমন চিন্তা যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং কে বেছে নিতে পারেন । করোনার সময় আমরা দেখেছি মানুষের দুর্ভোগ অনেকে অনেকের চাকরি হারিয়েছেন অনেক কোম্পানি অনেক লস করেছে । এরকম পরিস্থিতিতে উপলক্ষে করা যায় ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ থাকাটা কত জরুরী । 

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য এবং কাজ করার জন্য আপনার একটি ল্যাপটপ থাকতে হবে এবং সঠিক স্কিল থাকতে হবে।  আপনি আপনার ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে পুরাতন ল্যাপটপ কিনতে পারেন এবং বাকি টাকা দিয়ে কোন আইটি সেন্টারে ভর্তি হতে পারেন আপনার স্কিল শেখার জন্য । ভর্তি হওয়ার আগে অবশ্যই যাচাই করে নেবেন যে কোথায় ভর্তি হচ্ছেন কাদের কাছে শিখছেন।

২৩. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর তেইশ তম টি হলো ড্রপ শিপিং 

অনেকেই হয়তো জানেন ড্রপ শিপিং কি এবং অনেকের কাছে হয়তো এটি আজকে শোনা প্রথম শব্দ । ভয়ের কিছু নেই আমি পরিষ্কার করে বলছি ,ড্রপ শিপিং কী এবং কীভাবে করতে হয়? ড্রপ শিপিং হলো এমন একটি অনলাইন ব্যবসা, যেখানে নিজের কাছে পণ্য মজুত না রেখেই পণ্য বিক্রি করা যায়। এ ব্যবসা শুরু করতে প্রথমে ঘড়ি, পোশাক, ব্যাগ বা ঘরের ব্যবহার্য জিনিসের মতো কিছু পণ্য বেছে নিতে হবে এবং একজন নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী খুঁজতে হবে। 



এরপর ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে পণ্যের ছবি ও দাম দিয়ে প্রচার করতে হবে। কোনো ক্রেতা অর্ডার করলে সরবরাহকারীকে জানাতে হবে, যাতে তিনি সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন। পণ্যের বিক্রয়মূল্য থেকে পণ্য কেনা, ডেলিভারি, বিজ্ঞাপনসহ অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর যা থাকবে, সেটিই আপনার লাভ। নতুনরা অল্প পরিসরে ফেসবুক পেজ দিয়ে শুরু করতে পারেন। তবে ব্যবসা শুরুর আগে সরবরাহকারীর বিশ্বস্ততা, পণ্যের মান ও ডেলিভারি ব্যবস্থা যাচাই করা জরুরি।

২৪. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর চব্বিশ তম টি হলো অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা 

কাপড়ের ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা সারা জীবন চলবে। কারণ মানুষ যতদিন দুনিয়ায় থাকবে ততদিন তার কাপড় কিনতে হবে । একজন মানুষের অনেক পোশাক থাকা সত্ত্বেও বাজারের নতুন কোন পোশাক আসলে সেটি কেনার জন্য তার মনে অবশ্যই ইচ্ছা জাগ্রত হয় আর এই সুযোগে কাজে লাগিয়ে কাপড়ের ব্যবসা টিকে থাকে । আপনি যদি অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে মানুষের নজর কাড়ে এরকম সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের কাপড় টপ করতে হবে এবং সেগুলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে মানুষের কাছে প্রচার করতে হবে ।

২৫. ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এর পঁচিশ তম টি হলো গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ভিডিও এডিটিং সার্ভিস 

গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং সার্ভিস: ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিংকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এ কাজ শুরু করার জন্য প্রথমে একটি ভালো কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার এবং ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর ইউটিউব বা অনলাইন কোর্সের সাহায্যে গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং শেখা শুরু করতে পারেন।

এ কাজে সাধারণত লোগো, ব্যানার, পোস্টার, ফেসবুক পোস্ট, ইউটিউব থাম্বনেইল তৈরি এবং ভিডিও কাটছাঁট, কালার ঠিক করা ও বিভিন্ন ইফেক্ট যুক্ত করার কাজ করতে হয়। প্রথমে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে কিছু নমুনা কাজ তৈরি করুন। এরপর ফেসবুক পেজ, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ও পরিচিত ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে গ্রাহক খুঁজে কাজ নেওয়া শুরু করতে পারেন।

শুরুতে শেখা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের পেছনে টাকা খরচ করে ধৈর্য ধরে কাজ করলে ধীরে ধীরে এটিকে আয়ের একটি ভালো উৎস হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তবে আমাদের মাঝে অনেক ভুল ধারণা আছে যে এই কাজ শিখলে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করা সম্ভব এই কথাটি পুরোপুরি সত্য নয় প্রথম অবস্থায় কোন কাজেই লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করা সম্ভব নয় প্রথমে ধৈর্য ধরে অল্প অল্প করে ইনকাম শুরু করতে হবে পরবর্তীতে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে সাথে টাকা আয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে ।



আপনি যদি পুরো পোস্টটি পরে শেষ করে থাকেন তার মানে আপনি অবশ্যই একজন ধৈর্যশীল মানুষ এবং আপনার মাঝে পর্যাপ্ত ডেডিকেশন রয়েছে । যদি সত্যিই ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনি অবশ্যই পারবেন । আমার কথাগুলো যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন যদি কোন ভুল তথ্য দিয়ে থাকি সেটাও জানাবেন । এমনি সব তথ্যবহুল পোস্ট পেতে সাথেই থাকুন "তথ্য আহরণের"। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

তথ্য আহরণের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url